Latest

Continue reading this blog to discover yourself
Showing posts with label Science Fiction. Show all posts
Showing posts with label Science Fiction. Show all posts

Sunday, July 31, 2022

Friendship | Short Stories

ফ্রেন্ডশিপ (ফল ইন ডেস্পারেট অন বিলিভ)

খালিদ বিন মাসুদ     

Friendship - Short Stories


এক. (যাত্রী ছাউনিটার পাশে) 

ভাদ্র মাসের প্রচন্ড রোদে হেলমেট পরে আর এক মুহূর্তও বাইক চালাতে ইচ্ছে করছে না। পথ যেনো শেষই হচ্ছে না! অথচ অন্য সময় শতকিলো বাইক চালাতে আগ্রহের কমতি থাকে না ভিকির। বাইক চালাতে চালাতে ভিকি এক সময় আপন মনে গুনগুন করে বলে উঠলো - আর কতো সময় লাগবে ক্যান্টনমেন্ট পৌঁছাতে? যদিও অন্য দিনের তুলনায় আজকের দিনটা ভিকির জন্য কিছুটা স্পেশালও বটে। তাছাড়া ছোট ভাই শিহাবের সাহসের উপর ভর করে বেশ কিছুটা আগবাড়িয়েই এই পথ চলা। 

অল্প সময় কল্পনায় চলে গেলেও সামনে দৃশ্যমান হয়ে উঠলো ক্যান্টনমেন্ট। ভিকি পিকাপ বাড়িয়ে এগিয়ে চললো। 

যাত্রী ছাউনিটার পাশে এসে বাইক থামিয়ে হেলমেট খুলে এক গভীর শ্বাস ছেড়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে বেঞ্চে বসে টিস্যু দিয়ে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে ভিকি লক্ষ্য করলো বেঞ্চের অন্য কোনে একটি মেয়ে বোরকা পরে বসে আছে। ভিকি একবার মেয়েটিকে দেখে অন্যদিকে তাকিয়ে গুনগুন করে গাইতে লাগলো লতা মঙ্গসকারের গান - বাহার ছে কই আন্দার আ না ছাকে, আন্দার ছে কই বাহার যা না ছাকে, ছোচো কাভি এইছা হো তো কিয়া হো, হাম তুম এক কামরে মে বান্দ হো... 

দেখতে দেখতে মিনিট পাঁচেক সময় পার হয়ে গেলো, ভিকি এবার একটু অস্থির হয়ে পকেটে হাত দিয়ে মোবাইলটা বের করতে গিয়ে মনে পড়লো সে তো ফোনটি বাসায় চার্জে রেখে এসেছে! এখন উপায়! এবার ভিকি একটু কেষে বেঞ্চের কোনের মেয়েটিকে বললো - এক্সকিউজ মি, ম্যাম, হাভ ইউ ফোন? মেয়েটি নির্পলক ভিকির দিকে তাকিয়ে রইলো। ভিকি এবার গলা মোটা করে বললো - আসোলে আমার ফোনটা ভুল করে বাসায় রেখে এসেছি। কথা শেষ হবার আগেই মেয়েটি ব্যাগ থেকে নীল রঙের একটি বাটন ফোন বের করে হাত বাড়িয়ে দিলো। ফোনটি ছো মেরে তুলে নিয়ে ভিকি একমনে নাম্বার ডায়াল করে চললো। 

কিছু সময় পর ওপাশে ছোট ভাই শিহাব বলে উঠলো - কে? ভিকি - আমি ভিকি। শিহাব - এএ কোন ভিকি? ভিকি (একটু আস্তে)- আরে বড় ভাই ভিকি! শিহাব - ও ভাই (হাসতে হাসতে), তা বলেন কতদূর কি হলো? ভিকি - আরে কি বলবো আর, ফোন তো বাসায় রেখে আসছি। শিহাব - বলেন কি ভাই! ভিকি - সেই তো, আর এখানে এক মেয়ের কাছ থেকে ফোন ধার নিয়ে তোমারে ফোন দিলাম। শিহাব (হেসে কুটিকুটি) - ডেট করতে এসে এক মেয়ের ফোন ধার নিয়ে অন্য মেয়েকে ফোন দেবেন! ভাই আপনিই পারবেন। প্রভু তু সি গ্রেট হো, তওফা কবুল কারো... শিহাব ফোনটি কেটে দিলো। ভিকি কয়েকবার হ্যালো বলে ড্যাম ইট বলে মোবাইলটা মাথায় টোকাতে লাগলো। এতোক্ষণে মেয়েটি ভিকির পাশে এসে বসে মুখের নেকাপ খুলে কানে পিন গুজে ভিকির দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসতে শুরু করেছে। ভিকি কিছু বলতে যাবে এমন সময় মেয়েটি বলে উঠলো - তো কেমন আছেন? ভিকি - এই তো আছি। মেয়েটি - তো এখানেই বসে থাকবেন না চা কফি কিছু খাবেন? ভিকি - শিওর, চলুন ঐ কফি শপে। বলেই ভিকি উঠে হাটতে শুরু করলো। মেয়েটিও ভিকির পিছে এগিয়ে চললো। ভিকি মনে মনে ভাবতে লাগলো - এই কি সেই মেয়ে, যার সাথে আমার দেখা হবার কথা আছে!

দুই. (ডন রেজোর অফিস)

Wednesday, July 13, 2022

Ocena Ami | Short Stories

অচেনা আমি

মোঃ খালিদ বিন মাসুদ

(এই গল্পটি খুলনা কালচারাল সেন্টার এর ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।)

Ocena Ami
দরজায় নক পড়তেই হন্তদন্ত হয়ে মা ছুটে এলেন।  দরজা মেলেই এক গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো নিলয়ের প্রান্তের দিকে।  মনের চাওয়া-পাওয়া, আনন্দ-বেদনা যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে চাহনীর গভীরতায়।  কিছু বলতে যেতেই প্রান্ত বলে উঠল – “মা, সরো! আমার কাজ আছে।” কথাটা বলেই প্রান্ত ঘরের ভেতর চলে গেলো। 

রাতে খাবার টেবিলে মায়ের চোখে পানি দেখে ঐশী আর সহ্য করতে পারলো না।  ঐশী – “মা, ও-মা, আমি তোমার মেয়ে না? তুমি শুধু প্রান্ত প্রান্ত করো।  ” মা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল – “মা-রে, তোর বাবা যাওয়ার সময় বলেছিল – দে আর মাই স্পেশাল চাইল্ড, আই হ্যাভ লট অব ওয়ার্ক অন ম্যানকাইন্ড, টেক কেয়ার অব দেম। ” ঐশী রেগে গিয়ে বলল – “তারপর, তারপর তো সে কোনোদিন আমাদের খবর নেয় নি! সে বেঁচে আছে না মারা গেছে কিছুই জানি না। ” মা কিছু না বলে টেবিল থেকে উঠে গেলো। 

Eclipse Ek Ojanay | Short Stories

 ইক্লিপ্স এক অজানায়

খালিদ বিন মাসুদ

(এই গল্পটি খুলনা কালচারাল সেন্টার এর ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।)

eclipse ek ojanay
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিতে পীচ ঢালা পথে হাঁটতে ভালোই লাগে।  সেই সাথে শীতল হাওয়া যেন প্রতিবারেই মন কেড়ে নিচ্ছে।  জনমানবশূন্য রাস্তায় একা হাঁটতে কিছুটা ভীতি কাজ করলেও বিহারীর মনটা বেশ ফুরফুরে।  কেননা আজ নতুন একটা টিউশনির কথা আছে।  বেকার আর বিজ্ঞানীদের মধ্যে মিল এখানেই।  বিজ্ঞানীদের মন ফুরফুরে হয় কিছু আবিষ্কারের গন্ধে, এদিকে বেকারদের মন ফুরফুরে হয় টিউশনির গন্ধে!  রাস্তায় চলতে চলতে এক পর্যায়ে এসে বিহারী দাঁড়িয়ে পড়লো।  চট করে পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ বের করে দেখলো – নাহ, ঠিকানা তো ঠিকই আছে।  ঠিকানায় গলি ছিলো বামে, কিন্তু এখানে তো গলি ডানে।  বামপাশে বিল ছাড়া কিছুই নেই।  পরমুহুর্তেই বিহারী ভাবলো হয়তো সে রাস্তার বিপরীত দিক থেকে ঢুকেছে।  তো আর কি করা, ডানে মোড় নিয়েই চলতে শুরু করলো বিহারী।  

গলিতে ঢুকেই বিহারী লক্ষ্য করলো তাপমাত্রা কেমন যেন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।  আকাশের এক প্রান্ত থেকে সুরু আলোর রেখা এসে খেলা করছে প্রকৃতির সাথে।  গলির কুকুরটা হটাত চঞ্চল হয়ে উঠেছে।  বিহারী মনেমনে ভাবছে – হায় ঈশ্বর! কোথায় এসে পড়লাম? এমন সময় সামনে টিমটিমে আলোর নীচেয় কাঠের দরজা দেখা গেলো।  বিহারী দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল।  

Zombie The Beginning | Short Stories

জম্বি দ্য বিগিনিং

খালিদ বিন মাসুদ

(এই গল্পটি খুলনা কালচারাল সেন্টার এর ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।)

Zombie The Beginning

গরম কফিতে চুমুক দিয়ে বেশ কিছু সময় চোখ বুজে রইলো ইনজাম।  এসিসটেন্ট নাজিফার ঠোটে মুচকি হাসির দেখা মিলল।  নাজিফা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ভাবল কফিটা ভালোই হয়েছে।  একে একে তিন চুমুক দিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে তাকালো ইনজাম।  ইনজামের অফিসের ফ্রন্ট ভিউটা দারুণ।  সুউচ্চ টাওয়ারের টপ ফ্লোরে বিশাল থাই এর অপর প্রান্ত থেকে পড়ন্ত বিকেলের সূর্য ডোবা, এক অসাধারণ দৃশ্য! ইনজাম এই সময়টায় তার অফিসের সব লাইট অফ করে দেয় যাতে সূর্যের লাল আভায় তার অফিস মোহাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে।  যদিও বুদ্ধিটা তার ফ্রেন্ড গ্রাফিক্স ডিজাইনার কিংকরের কাছ থেকে ধার করা, তারপরও ইনজাম দারুণ উপভোগ করে বিষয়টি।  নাজিফা ভাবলেশহীন কন্ঠে একটু কেশে বলল – স্যার আমি যাবো? ইনজাম তাকে অনুমতি দিয়ে আবার কফিতে চুমুক দিয়ে প্রকৃতির দিকে নিবিড় চাহনিতে তাকিয়ে রইলো।  

সন্ধ্যা হয়ে গেছে তবুও কিংকরের ফোন এলো না! ইনজাম ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ৬:৩৭ বাজে।  ইনজাম মনে মনে ভাবল এমনতো বিগত ২ বছরে হয়নি।  তাহলে কিংকরের কি কোনো সমস্যা হলো? ভাবতে ভাবতে কখন যে ফোন চলে গেছে কিংকরের কাছে তা ইনজাম নিজেও জানে না।  নাহ, কিংকর তো ফোন ধরছে না! এতক্ষণে ঘোর অন্ধকারে ঢেকে গেছে পুরো শহর।  ইনজাম অফিসের লাইট জ্বালাতে গিয়ে লক্ষ্য করলো আজ রোড লাইট জ্বলেনি।  এরিমধ্যে ফোনে ভাইব্রেট হচ্ছে।  

Tuesday, July 12, 2022

LYCAN THE BEGINNING | Short Stories

 লাইকানস দ্য বিগিনিং

খালিদ বিন মাসুদ

(এই গল্পটি খুলনা কালচারাল সেন্টার এর ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।)

এক.

Lycan The Beginning
পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়তেই দলের সরদার তার তাবুতে ঘণ্টা বাজানো শুরু করলো। ঘণ্টার শব্দ শুনতেই সবাই ছুটোছুটি করে সরদারের তাবুর সামনে এসে দাঁড়ালো। সবার চোখেমুখে আতংকের চিহ্ন। সবাই একে অন্যের সাথে কানাঘুষা করতে লাগলো। কানাঘুষা সোরগোলে পৌঁছাতেই তাবুর ভেতর থেকে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠ ভেসে এল - "তোরা থামবি-ই।" এক মুহূর্তেই পিন পতন নিরাবতা নেমে এল। চারপাশে কেবল গাছের পাতার শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দই নেই। লাঠির ভরে খট খট আওয়াজ তুলে সরদার তাবুর বাইরে বের হয়ে বল্ল - "হিসসস! আর একটাও শব্দ না।" একটু থেমে –"তোরা কি ভুলে গেছিস শরৎ এসেসে, আর আজ শরতের প্রথম রাত। যা, গিয়ে উৎসবের আয়োজন কর।" ছোট্ট করে একবার শ্বাস নিয়ে –"আজ রাতে কেউ যেন না ঘুমায়।" আশপাশে তাকিয়ে –"এখন যা, দাঁড়িয়ে থাকলি কেন? উৎসবের প্রস্তুতি কর গিয়ে।" সবাই তাড়াহুড়া করে নিজের কাজ শুরু করে দিলো। সরদার তাবু থেকে বেরিয়ে একটি চেয়ারে বসে তার লাঠির উপর মুখটি ভর করে কাজের অগ্রগতি দেখতে লাগলো। 

ঘন জঙ্গলের মধ্যে একটি আগুনের আলোকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে উঠেছে উপজাতিরা। ঢোলের তালে আগুনকে পরিক্রম করে উন্মাদের মতো নেচে চলেছে সবাই। ঢোলের আওয়াজ দূর থেকে ভেসে কানে এলো একজন ট্রাক ড্রাইভারের। শব্দ কানে যেতেই যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে এলো ড্রাইভারের। সে ফিস ফিস করে ডাকল - "মতিন! ও মতিন। হেড লাইট টা জ্বালাবো নাকি বেটা?" মতিন-"আফনে ওস্তাদ। আফনে জেইডা ভালো বোঝেন সেইডাই করেন।" ড্রাইভার ভয়াল চোখে চারিদিকে চেয়ে কয়েকবার ঢোঁক গিল্ল। ট্রাক স্টার্ট দিয়ে হেড লাইট জ্বালাতেই চোখের সামনে দিয়ে ছায়ার মতো কয়েকটা কি যেন দ্রুত সরে গেল। ট্রাকের চারপাশ থেকে নেকড়ের ডাক কানে আসতে লাগলো। অবস্থা বেগতিক দেখে ড্রাইভার গাড়ি জোরে চালাতে শুরু করলো। মতিন চোখ বন্ধ করে ঈশ্বরকে ডেকে চলেছে। ড্রাইভার ঘামছে আর হাঁপাচ্ছে, তবুও গাড়ি চালাচ্ছে। হঠাৎ ড্রাইভার দেখল সামনের আকাশে রক্তিম আভা। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ভোর ৫টার কিছু বেশি সময় হয়েছে। ড্রাইভার-"ও মতিন। চোখ খোল। দেখ আমরা পারছি।" এমন সময় ট্রাকের চাকা গেতে গেল কাদায়। কড়া ব্রেক কষায় দুজনই বাড়ি খেলো গ্লাসের সাথে। 

বহু কষ্টে চোখ খুলল ড্রাইভার। দেখে মতিন পাশেই অচেতন হয়ে পড়ে আছে। এমন সময় পায়ের থপ থপ আওয়াজ দূর থেকে ধিরে ধিরে ওদের দিকে এগিয়ে এলো। 

Monday, July 11, 2022

SOMOYER FATOL | Short Stories

সময়ের ফাটল

খালিদ বিন মাসুদ

(এই গল্পটি খুলনা কালচারাল সেন্টার এর ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।)

এক.

Somoyer Fatol
দরজাটা টেনে লাগিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে পড়লো অথি। পড়ন্ত বিকেলের লাল আকাশে দূরে চেয়ে কি যেন খুঁজছে তার চোখ। কিছু সময় ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে আপন মনেই বলে উঠল - “এমন কেন হবে?” অথি আবার হারিয়ে গেল ঐ আকাশে। এদিকে হু হু করে বইছে উত্তরে বাতাস। ঠাণ্ডার প্রকোপে অথির সম্বতি ফিরে এলো। সে এবার বারান্দা থেকে নেমে মাটির পথ ধরে এগুতে থাকলো। হাটতে হাটতে সে নিজেকে আপন মনে প্রশ্ন করলো - “প্রকৃতি যদি আমাদের সাথে এমন ছলনা করে, তবে আমরাও কি পারি না প্রকৃতির সাথে ছলনা করতে?” এমন সময় অথির সেলফোনে ভাইব্রেড হোলো। অথি - “হ্যালো। কে?” ওপাশ থেকে ছেলে কণ্ঠ - “কই তুই?” অথি - “ও হৃদয়। কেন কি দরকার?” হৃদয় (উত্তেজিত কণ্ঠে) - “আমরা সবাই ক্যাম্পাসে আছি। চলে আয়। একটা কিছু করতেই হবে!” অথি কলটি কেটে দিয়ে কাঠের গেট থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়ালো। পাশেই রিক্সা ছিল। রিক্সায় উঠতে গিয়ে সে আবার বাড়িটির দিকে ফিরে চাইল। এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিক্সাওয়ালাকে চালাতে বলল। 

ভার্সিটি ক্যাম্পাসে সন্ধ্যায় সবাই চা আর টা এর আড্ডায় ব্যাস্ত। এতো লোকের মাঝে চারটি ছেলেমেয়ে নিশ্চুপ বসে আছে তাতে কারোরি মাথাব্যাথা নেই। বেশকিছু সময় এভাবে কাটিয়ে দেবার পর নিস্তব্দতা ভেঙে অনিক বলে উঠল - “এভাবে বসে থাকলে কি হবে? নিতু তোরা কথা বলছিস না কেন?” নিতু (কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে) - “আমি, আমি আর ভাবতে পারছি না। আমি জানি না কি হবে?” শান্ত - “দেখ যা হবার হবে। তাই বলে আমরা কি এভাবে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবো?” অথি - “হৃদয় টা কই গেল? আমাকে ফোনে আসতে বলে নিজেই উধাও! আজব!” নিতু - “অইতো হৃদয় তোর পিছনে দাঁড়িয়ে আছে।” অথি - “হৃদয় সামনে আয়। এভাবে লুকিয়ে থাকিস না।” হৃদয় সবার মাঝে এসে বসলো। একটু থেমে বলতে শুরু করলো - “দেখ। আমি ফিগার আউট করে ফেলেছি। দেখ, এই ভার্সিটি থেকেই ঘটনার শুরু হয়েছিলো।” অনিক - “তোহ?” হৃদয় - “আমরা যদি ফিরে যেতে পারি, মানে ...” শান্ত কথাটিকে ব্যাঙ্গ করলো। হৃদয় বিষয়টি ভ্রুক্ষেপ না করে আবার বলতে শুরু করলো - “আমরা যদি ফিরে যেয়ে ঘটনাটি ঘটতে না দেই” এবার হৃদয়ের কণ্ঠ ভিজে উঠল (কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে) - “আমাদের স্যার আমাদের ছেড়ে যাবে না। তোরা তো বুঝতে পারছিস আমি কি বলছি?” 

সবাই এতো সময় হ্যাঁ করে হৃদয়ের কথা শুনছিল। নিরবতা ভেঙে অথি বলল - “কিভাবে যাব?” হৃদয় - “চল তোরা আমার সাথে। আমি দেখাব কিভাবে যেতে হয়।” 

HELMET 7 | Short Stories

হেলমেট ৭ – (নিঃসঙ্গ গ্রহে এক প্রতীক্ষিত বর্ষাকে বরণ)

মোঃ খালিদ বিন মাসুদ

(এই গল্পটি খুলনা কালচারাল সেন্টার এর ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।)

এক

Helmet 7
এক ফোঁটা জল চোখের পাতায় পড়ায়, চোখ মেলে তাকালো দিথী। আকাশের দিকে চেয়ে প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলে হেলমেট ৭ কে প্রশ্ন করলো – কি মনে হচ্ছে? বর্ষা কি আসছে? হেলমেট ৭ – আসবে। হেলমেট ৭ এর উত্তর শুনে ও অবাক হয়। ভাবতে থাকে হেলমেট ৭ কেনো বলল না যে আজ বাতাসের গতি বেশি বা বাষ্পের পরিমান কম। আরো ভেবে অবাক হয় আমি কতটা অসহায়, আজ যন্ত্র আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে! দিথী আবার চোখ বন্ধ করে কিন্তু সাথে সাথেই চোখ মেলে এবং বড় বড় নিঃশ্বাস নিতে থাকে। হেলমেট ৭ প্রশ্ন করে – আজো কি একই স্বপ্ন দেখলে? দিথী কাপা কাপা গলায় বলে – আমি কেন প্রতিদিন একই স্বপ্ন দেখি? হেলমেট ৭ – হয়তো তুমি মানুষ না, আমার মতো রোবট। দিথী তখন নিজের পেটের দিকে তাকায়। দেখে তার সন্তানেরা পেটের মধ্যে নড়াচড়া করছে। সে মনে মনে বলে – রোবট হলে কি আর সন্তান জন্ম দিতাম? দিথী, হেলমেট ৭ কে উদ্দেশ্য করে বলে – আচ্ছা তোর কি মনে আছে ঐ রাতে কি হয়েছিল? হেলমেট ৭ কোনো উত্তর দিল না। দিথী – তুই মিথ্যা বলাও শিখে যাচ্ছিস? হেলমেট ৭ – দ্বিতীয় চাঁদ উঠে গেছে। খাবার জোগাড় করতে যাচ্ছি। সাবধানে থেকো। দিথী বুঝলো হেলমেট ৭ তাকে এড়িয়ে যেতে চাইছে। তাই সে আর কোনো কথা বাড়ালো না। ঘুণে খাওয়া একটা লাঠি নিয়ে বলল – যা, আমি ঠিক আছি। তাড়াতাড়ি চলে আসিস। 

হেলমেট ৭ গেছে অনেক সময় হয়েছে। সবুজ আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে দিথী। এই গ্রহে দ্বিতীয় চাঁদ ওঠার সাথে সাথেই আকাশের রঙ নীল থকে সবুজ হয়ে যায়। অর্ধেক ওঠা এই চাঁদের দিকে চেয়ে ও ভাবতে চেষ্টা করে সেদিন রাতে কি হয়েছিল?